শীতের দিনে শিশুদের গোসল করানোর ব্যাপারে অনেকেই বেশ শঙ্কায় থাকেন।
প্রতিদিন গোসল করালে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে, আবার না করালেও বিপদ। নিয়মিত
গোসল না করালে ত্বকের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতকালে বাতাসের
আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক শুষ্ক থাকে, খসখসে ভাব হয়। আবার নিয়মিত গোসল না
করালে শিশুর শরীর ঘেমে যায়। এই ঘাম থেকে দুর্গন্ধ হয়, ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠে,
ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে; এমনকি পুঁজও জমতে পারে। ঘাম গায়ে বসে গিয়েও অনেক
সময় শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।
এ বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের
শিশুরোগ বিভাগের প্রধান তাহমিনা বেগম বলেন, অনেকে নবজাতককে নিয়মিত গোসল
করান না। এ কারণে বাচ্চার গায়ে ফুসকুড়ি ওঠে এবং এর মধ্যে পুঁজ জমে যায়। তাই
শিশুর অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে নিয়মিত গোসল করানো উচিত। জন্মের পর
নবজাতককে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত গোসল না করানো উচিত। এরপর প্রতিদিন গোসল করানো
যেতে পারে।
নবজাতক, অর্থাৎ যাদের বয়স শূন্য থেকে ৩০ দিনের মধ্যে, তাদের
সপ্তাহে দুদিন, এর পর থেকে, অর্থাৎ ৩০ দিনের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন
গোসল করানো উচিত। তবে অল্প ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণকারী শিশুর নাক দিয়ে পানি
পড়লে, নিউমোনিয়ার কোনো লক্ষণ থাকলে বা ঠান্ডা লাগার কোনো লক্ষণ থাকলে গোসল
করানোই উচিত নয়। খুব ছোট শিশু কিংবা ঠান্ডার সমস্যা আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে
বা যেদিন বেশি কুয়াশা থাকবে, সেদিন শিশুর গোসলের সময় কমিয়ে দিয়ে হালকা
উষ্ণ পানিতে দ্রুত গোসল করিয়ে ফেলতে পারেন।
শীতে শিশুকে গ্লিসারিনযুক্ত
সাবান দিয়ে গোসল করানো ভালো। গোসল শেষে নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিন।
এরপর ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার আগেই চটজলদি ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিন। এতে শিশুর
ত্বক ভালো থাকে; শুষ্ক ও খসখসে হয় না।
শীতে শিশুকে নিয়মিত গোসল না করালে
চুলকানি, ছত্রাকসহ বিভিন্ন রকম চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এক দিন পর পর চুলে
ভালোভাবে শ্যাম্পু করিয়ে দিন, যাতে ধুলা-ময়লা জমে খুশকি না হয়।
শীতকালে
গোসলের পানির তাপমাত্রা সহনীয় ও আরামদায়ক হতে হবে। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা
ও পানির তাপমাত্রা সমান রাখা উচিত। এতে শরীরের রক্ত চলাচলের গতি বেড়ে যায়।
এ ছাড়া হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের বন্ধ লোমকূপ খুলে যায়। ফলে,
ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ ও কোমল করে তোলে। শিশুর ত্বকের জন্য
মালিশ খুব উপকারী; বিশেষ করে শীতে গোসলের আগে শিশুকে কিছুক্ষণ রোদে রাখার
পর জলপাই তেল দিয়ে পুরো শরীর মালিশ করে দেওয়া উচিত। মালিশ করার তেল কুসুম
গরম করেও নিতে পারেন। এতে শীতে শিশু ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা কম থাকবে আর ত্বকও
অনেক ভালো থাকবে।

0 মন্তব্যসমূহ